Tuesday, January 19, 2016

দঃ বিষ্ণুপুরের ভাঙাচোরা মেলা-Fair of South Bishnupur

দঃ ২৪ পরগণা জেলার দক্ষিণ বিষ্ণুপুর একটি জনবহুল স্থান৷ এটি বারুইপুর-কুলপী রোড ও রায়দিঘী-ডায়মন্ড হারবার রোডের  ক্রসিং এ অবস্থিত৷ এখান থেকে সড়ক পথে সহজেই অনেক জায়গায় পৌঁছানো যায়৷ এই কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কমোড়৷ এখানে একটি বড় শশ্মান ও কালী মন্দির রয়েছে তাই প্রতিদিন জনসমাগম  হয়৷ প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে এখানকার সংলগ্ন বিস্তৃত বাদা অঞ্চলে এক বিরাট ব্যাতিক্রমী মেলা বসে৷ এই মেলার বিশেষত্ব এটাই যে এটি একটি বিশাল পুরানো দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের মেলা৷

অসংখ্য টিভি ও কম্পিউটার স্টল রয়েছে


কেন আসবেন এখানে?

 গঙ্গাসাগরের পর  এটি আমাদের দঃ ২৪ পরগণা জেলার সবথেকে বড় মেলা৷ এই মেলা বিপুল দ্রব্যের সম্ভার৷  4,০০০ বর্গমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে এই মেলা বসে৷ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই মেলার রেশ থাকে৷ 


পুরানো ও নতুন মিলিয়ে কয়েক হাজার দোকান বসে এই গ্রাম্য মেলায়৷ বহুদূর থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন , স্নান সারেন পৌষ সংক্রান্তিতে৷ এই সময় ঘুড়িতে আকাশ ভরে৷ তবে এই মেলার জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হল পুরানো জিনিসের দোকান৷  প্রতিদিনের ব্যবহার্য্য সমস্ত জিনিস রয়েছে এই মেলায়৷ পুরানো টিভি, ফ্রিজ, জামা, প্যান্ট, জুতো , বই, খাতা, খাট, দরজা, বেডিং, হাড়ি, কড়া এমনকি পুরানো মোজা, টুথপেস্টও  পাওয়া যায়৷  কয়েক লক্ষ মানুষ এই মেলায় আসেন কেনা বেচা করতে৷ কেনার আগে  যেমন খুশি দোকানের জিনিস নাড়িয়ে -চাড়িয়ে-বাজিয়ে দেখে নেন প্রতিটি ক্রেতা৷ কিছু দোকান দেখলে মনে হয় ধ্বংসস্তূপ, এটা আবার দোকান হয় নাকি! তাহলে ভুল করবেন৷ কারণ ওর মধ্যেও এমন কোনো দামী জিনিস লুকিয়ে রয়েছে যেটা অল্প শিক্ষিত দোকানদার'রা বোঝেন না আর আপনি সামান্য দামেই পেয়ে যেতে পারেন৷ 

সবরকম বই পাবেন পুরানো দর এ


শুধু পুরানো নয় নতুন জিনিসও পাওয়া যায় এই মেলায়৷  বিশেষ করে কাঠের জিনিস -আলমারী, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, দরজা, পোষাক, সৌখিন ও উপহার সামগ্রীর অনেক নতুন দোকান বসে৷ এছাড়াও সাধারণ মেলার মতো অনেক চড়ার জিনিস (রাইড), সার্কাস ইত্যাদিও বসে৷   রেস্টুরেন্ট ও নানা  খাবার দোকানের অভাব নেই ৷ ভাববেন না খাবার গুলোও পুরানো :) ৷


মেলার দৃশ্য


হীরক মুখার্জী ওখানকার এক স্থানীয় যুবক৷ তার কথায়--- "ভাঙাচোরা মেলা আমার সবথেকে প্রিয় মেলা। যে মেলাতে Transcend এর 512 MB SD card যেমন 20 টাকায় পাওয়া যায়, তেমনি Olympas এর ডিজিট্যাল ক্যামেরা 10 MP 1200 টাকায় পাওয়া যায়। আবার Anderson এর Fairy Tales 50 টাকায়,Leo Tolstoy এর বই 10 টাকায়,জিম করবেট অমনিবাশ 7 টাকায়,রাজকাহিনী 5 টাকায়,মেঘনাদবধ কাব্য 10 টাকায়,ঘনাদা সমগ্র 15 টাকায় পেয়েছি। একদম নতুন হয়তো নয়,আবার পুরোনো ও নয়। এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিস নেই যেটা এই মেলায় পাওয়া যায় না! Cycle, TV,Fridge, ,Laptop,Apple Iphone 4s,Ipod, Speaker,Home theater,Fan, Headphone,Tea pot  কত হাজার রকমের জিনিস যে, না গেলে বলে শেষ করতে পারবো না। "



বইমেলা'র মধ্যে (নতুন)



এ মেলার আকর্ষণ পুরনো জিনিস। বহুমূল্য সাবেক আসবাব থেকে হাল আমলের ফ্রিজ, এলইডি স্ক্রিন, ডেস্কটপ কিংবা স্মার্টফোন কিনতে ভিড় করেন দূরদূরান্তের মানুষ। এই মেলার পাশাপাশি, একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চায়েত থেকে বইমেলা ও নানা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা৷

গৃহসজ্জার দোকান


ক্ষুদে মাস্ক বিক্রেতা

কিভাবে আসবেন এই মেলায়??

শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর বা নামখানা লোকালে উঠে মথুরাপুর রোড স্টেশানে নেমে উত্তর দিকে আসতে হবে৷ মথুরাপুরের আগের রেলওয়ে স্টেশান জয়নগর-মজিলপুর৷ এখান থেকে অটো/ভ্যান এ করে  চলে আসা যায় বিষ্ণুপুর৷ বড় জিনিস কিনলে সহজে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন বারুইপুর-কুলপী (আশি)  রোড ধরে৷
মহাশশ্মানের গঙ্গা


মেলা সৃষ্টির ইতিহাস

মেলার শুরু নিয়ে রয়েছে এক কিংবদন্তী। নবদ্বীপ থেকে ওড়িশা যাওয়ার সময় এখানে রাত্রিবাস করেছিলেন শ্রীচৈতন্য। দিনটি ছিল মকর সংক্রান্তির। সেই সময়ে এখান দিয়ে বইত গঙ্গা, পরবর্তী কালে গঙ্গা তার গতিপথ পরিবর্তন করলেও তৈরি হয় বেশ কিছু বড় পুকুর। দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান সংলগ্ন একটি পুকুরকে বলা হয় গঙ্গা। আর পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় চলে ভোর থেকে বিশেষ স্নান পর্ব। এখানকার মূল আকর্ষণ অবশ্যই মেলা৷
শিল্পদ্রব্যের অভাব নেই

এভাবেই বিক্রি হয়



"আপনারা এতো পুরানো জিনিসগুলো পান কোথা থেকে?" - এক দোকানদার কে জিজ্ঞাসা করাতে জানা যায়, কোনো বড়ো বাড়ি যখন তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করে , বাড়ির সমস্ত জিনিস বেচে দেন কেউ কেউ৷ এছাড়াও মেলা শুরুর অনেকদিন আগে থেকে দোকানদার'রা পুরানো জিনিস সংগ্রহ করতে থাকেন৷ কেউ কেউ সারাবছরই পুরানো জিনিসের দোকান দিয়ে সংসার চালান৷

কি নেই এখানে?


কি কারণে পুরানো মেলা??

তবে মেলায় পুরনো জিনিসের বেচাকেনার একটা কারণ আছে— এখানে আসেন মূলত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ। তাঁরা সচরাচর বেশি দাম দিয়ে টিভি, সিডি প্লেয়ার, কিংবা মোবাইল কিনতে পারেন না। তাদের ভরসা এই মেলা। তাই এই মেলাকে স্থানীয় মানুষরা ভাঙা মেলা/ ভাঙাচোরা মেলা বা পুরোনো মেলা বলে থাকেন৷
পুরানো হলেও নজরকাড়া টি টেবল, ড্রেসিং টেবল
ধারালো দোকান

এগুলো নতুন দোকান


তবে সময়ের  পরিবর্তনের সঙ্গে এখানে আসেন শহরের বহু  মানুষ পুরনো জিনিসপত্র কিনতে। এখন এই মেলায় ধনী-গরিব বা গ্রাম-শহরের  বিভেদ নেই৷ দক্ষিণ ২৪ পরগণার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে সমবেত হন এই মেলায়৷ দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের এই মেলা এক বিশাল সর্বজনীন মেলায় পরিণত হয়েছে৷৷
মেলার ভীড় বাড়তে থাকে বেলাশেষে

লেখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ৷ নিচের কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানান প্লিজ৷
আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করুন এখানে --  Sardarji on facebook
♥♥আরও পড়ুন---
জয়নগর মজিলপুরের পিকনিক স্পট৷
জয়নগরের কৃতী সন্তান উমেশ চন্দ্র দত্ত৷
প্রখ্যাত জয়নগরের মোয়া৷









15 comments:

  1. Darun lagche arijit tor ai profile dakha.tui khub talanted ar ai sob gulo sobar jana dorkar.ami tor ai kajar satha jukto hota chai.

    ReplyDelete
  2. Darun lagche arijit tor ai profile dakha.tui khub talanted ar ai sob gulo sobar jana dorkar.ami tor ai kajar satha jukto hota chai.

    ReplyDelete
    Replies
    1. Thank you so much ♥♥. But I cant understand who are you.

      Delete
  3. nice..awesome...thank u amdrk mela samobandhe ato dhatona deouar jnno...thank u(bawal boy tabai rj)

    ReplyDelete
    Replies
    1. Welcome bro... (y) #Home এ ক্লিক করে বাকি লেখাগুলো দেখো৷

      Delete
  4. Thank you very much amader sanskroti ka tula dhorar jonno

    ReplyDelete
  5. osadharon lekha. Im proud of you.

    ReplyDelete
  6. ভাঙা মেলা ছবি আর কথায় সুন্দর জোড়া লেগে গেছে ।

    ReplyDelete
  7. ভাঙা মেলা ছবি আর কথায় সুন্দর জোড়া লেগে গেছে ।

    ReplyDelete
  8. Thank you friends... keep touh with me..

    ReplyDelete
  9. Dada khub khub valo laglo..... sob kotai.. ... tumi nimpith r Tulshigata gosto mela gulo likle valo lagbe




    ReplyDelete